বাংলা গাইড — ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (DPP) কী? কেন? কীভাবে?
ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (DPP) হলো পণ্যের গায়ে (কেয়ার লেবেলের QR কোডে) যুক্ত একটি ডিজিটাল রেকর্ড — যেখানে কাপড়ের ফাইবার, কার্বন ফুটপ্রিন্ট, রাসায়নিক ঘোষণা ও রিসাইক্লিং তথ্য থাকে। EU-র ESPR আইন (Regulation 2024/1781) অনুযায়ী ইউরোপে বিক্রি হওয়া পোশাকে এটি বাধ্যতামূলক হচ্ছে — প্রত্যাশিত সময় ২০২৮-২০২৯। বাংলাদেশের ৪,৫০০+ রপ্তানিমুখী কারখানার জন্য এই পেজে পুরো বিষয়টা সহজ বাংলায়।
লিখেছে DPPLive টিম · সর্বশেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬
০১ · সংজ্ঞা
DPP আসলে কী?
প্রতিটি পোশাকের কেয়ার লেবেলে একটি QR কোড থাকবে। যে-কেউ (ক্রেতা ব্র্যান্ড, কাস্টমস, ভোক্তা, রিসাইক্লার) স্ক্যান করলেই দেখবে পণ্যটির “পাসপোর্ট”: কোন ফাইবার কত %, কোথায় তৈরি, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কত, কোন রাসায়নিক আছে (REACH আর্টিকেল 33), কীভাবে ধুতে হবে, কীভাবে রিসাইকেল হবে। কাগজের সার্টিফিকেটের বদলে সব তথ্য এক স্ক্যানে।
০২ · আইন
ESPR 2024/1781 কী বলছে?
EU-র Ecodesign for Sustainable Products Regulation (ESPR) কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই ২০২৪। এই আইনের অধীনে টেক্সটাইল প্রথম অগ্রাধিকার তালিকায়। বাংলাদেশের কারখানাও এর আওতায় পড়ে — আর্টিকেল 1(2) অনুযায়ী আইনটি EU বাজারে আসা সব পণ্যে প্রযোজ্য, পণ্য যেখানেই তৈরি হোক; আইনি দায় ইমপোর্টার বা ব্র্যান্ডের, কিন্তু তথ্য দিতে হবে কারখানাকেই।
০৩ · সময়
কবে কী হবে? (টাইমলাইন)
২০ জুলাই ২০২৬ — EU কেন্দ্রীয় DPP রেজিস্ট্রি চালু হয়েছে (সব পাসপোর্টের সরকারি তালিকা)। ২০২৬ শেষ/২০২৭ শুরু — টেক্সটাইল ডেলিগেটেড অ্যাক্ট: ঠিক কোন কোন তথ্য দিতে হবে তা চূড়ান্ত। ২০২৮-২০২৯ — পোশাকে প্রয়োগ শুরু: DPP ছাড়া EU-তে বিক্রি নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রস্তুতির জন্য সময় আছে, কিন্তু ক্রেতারা অপেক্ষা করবে না।
০৪ · দায়িত্ব
দায়িত্ব কার — কারখানার নাকি ব্র্যান্ডের?
আইনি দায়িত্ব EU-তে পণ্য বাজারজাতকারী “ইকোনমিক অপারেটর”-এর (সাধারণত EU ব্র্যান্ড/ইমপোর্টার)। কিন্তু সব তথ্য আসে কারখানা থেকে — তাই বাস্তবে কাজটা আপনারই। ESPR আর্টিকেল 2(32) অনুযায়ী ব্র্যান্ড বা ইমপোর্টার একটি “DPP সার্ভিস প্রোভাইডার”-কে পাসপোর্ট সংরক্ষণ ও প্রসেসের অনুমতি দিতে পারে। DPPLive-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কারখানা নিজের তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে রাখে, আর কোন বায়ার কী দেখবে তা কারখানাই ঠিক করে।